সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

Posted in on June 12, 2015 by

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সুবিন্যস্ত বিশ্ব প্রকৃতি
মহান স্রষ্টার সুনিপুণ কারুকাজে গড়া সুবিন্যস্ত এই বিশ্ব প্রকৃতি। বিশাল আকাশ, বিস্তৃত জমিন আর দিগন্ত জোড়া সবুজ শ্যামলীমা কোন অসংগতি নেই, নেই কোন বিশৃংখলা, দোষত্রুটি। গোটা সৃষ্টি জগত যেন বিনি সুঁতোর মালার মতো এক অদৃশ্য বন্ধনে বাঁধা। রাতদিনের আবর্তন, ঋতুরাজির পরিক্রমা আর জীব জগতের চক্র সবই চলছে মহামহিমা আল্লাহপাকের নির্ধারিত নিয়মের অধীন। আর তাই প্রকৃতি জগতে বিরাজ করছে অপার শান্তি ও চমৎকার ভারসাম্য।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ তায়ালা তার সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা। অন্য সব সৃষ্টি আল্লাহর নিয়মের অধীন হলেও মানুষকে বুদ্ধি ও বিবেকের স্বাধীনতা দিয়েছেন। এই বড় মর্যাদার পাশাপাশি মানুষ আবার আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। প্রতিনিধি হিসাবে মানুষের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা।

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান
আল্লাহ মানব জাতিকে অন্ধকার অমানিশার মধ্যে ছেড়ে দেননি। পাপ পূণ্যে ঘেরা পৃথিবীতে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য দিয়েছেন হেদায়াত বা দিক নির্দেশনা। মানুষ যখনই তার হেদায়াত ভুলে বিপথগামী হয়েছে তখনই আল্লাহ পাঠিয়েছেন নবী বা রাসূল। আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সা.)। এর পরে আর কোন নবী আসবেন না। তাঁর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহ পাঠিয়েছেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র গ্রন্থ “আল কোরআন”। কোরআন মানুষের জন্য সঠিক পথ নির্দেশিকা। রাসূল (সা.) জীবনের সর্বক্ষেত্রে কোরআনের শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা দ্বীন ইসলামের পরিপূর্ণতা দান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেছেন, “আমি আজ তোমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম আর তা হল ইসলাম”।

মুসলমান কারা
ইসলাম শব্দের অর্থ আনুগত্য বা আত্মসমর্পণ। এই আত্মসমর্পণ হবে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে। তাই মানুষের মধ্যে যারা সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়েছে, জানমাল যাবতীয় সব কিছু আল্লাহর বিধান অনু যায়ী ব্যবহার করেছে, সর্বোপরি জীবনের সকল ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছে তারাই মুসলিম। মুসলমানদের মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহ পাকের ঘোষনা, “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণে তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে, অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে, আর আল্লাহর উপর ঈমান রেখে চলবে।”

মানবতার বিপর্যয়
কিন্তু মুসলমানরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে না বলেই আজ সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হয়েও সর্বক্ষেত্রে তারা লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অপমানিত। আমাদের ছোট মাতৃভূমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক পরিবেশে বিশেষ করে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় আজ আমাদের আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন ইত্যাদি নিত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ মানুষকে সৎ কাজের প্রসারের জন্য এবং আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করার জন্য দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনে যারা ব্যর্থ হবে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর ও যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি। আর যারা আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পালনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, আল্লাহ তাদের দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তি দিবেন, দিবেন সীমাহীন পুরস্কার। কিন্তু এ বিরাট দায়িত্ব কি একার পক্ষে পালন করা সম্ভব? এ জন্যে প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক সে ঘোষণাই দিয়েছেন, “তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ কর, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা।”

আমাদের করণীয়
সুতরাং আমাদের উচিত আল্লাহর প্রতিনিধি হিসাবে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর দেয়া দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালানো। তবেই ক্ষণিকের এই পৃথিবীতে আসবে শান্তি এবং পরকালের অনন্ত জীবন হয়ে উঠবে আরো প্রশান্তিময়। আর সেই চির শান্তির পথ দেখাতেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা পথহারা ছাত্রীদের মাঝে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা
ইসলামী আদর্শবাহী ছাত্রী সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ১৫ জুলাই এ সংগঠনের যাত্রা শুরু করে।

এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এ সংস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল: “বাংলাদেশের ছাত্রী সমাজকে আল্লাহর কোরআন ও রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী গঠন করে তাদেরকে আদর্শ মুসলিম নারী হিসেবে গড়ে তোলা এবং দ্বীন ইসলামের প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন করা, যাতে করে দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি হাসিল করা যায়।”

এ সংস্থার কর্মসূচী
এ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের চিরন্তন কর্মসূচী:
১. ছাত্রীদের মধ্যে দ্বীন ইসলামের সঠিক ধারণার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার।
২. ইসলাম প্রিয় ছাত্রীদের সুসংগঠিত করে উন্নত নৈতিক জীবন যাপনের প্রশিক্ষণ দান।
৩. ছাত্রী সমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্নমুখী সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ।

আহবান
আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। এ দায়িত্ব যথাযথ পালনের মাধ্যমে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি আশা করা যায়। যখন মানব রচিত মতাদর্শ জীবনের সর্বত্রই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, প্রগতির নামে ঊশৃঙ্খলা যখন নারী সমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও উন্নতির পথকে করছে রুদ্ধ, তখন আর বসে থাকা নয়, প্রতিটি আত্মসচেতন, বিবেকবান ছাত্রীদেরই প্রয়োজন ইসলামী জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা এবং অশান্ত সমাজে প্রশান্তির ফল্গুধারা বইয়ে দেয়া।
তাই, আসুন বোন- আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি হাসিলের উদ্দেশ্যে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে জীবনের সর্বক্ষেত্রে গ্রহণ করি, আপোষহীন আদর্শানুসারী“ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার” পতাকাতলে সমবেত হয়ে গঠন করি শাশ্বত সুন্দর শান্তির এক সমাজ, দূর করি অন্যায়-অসত্যের অন্ধকার।

×

Comments are closed.